সাংবাদিক খায়েরের চাঁদাবাজি: মাসে ১৩ লাখ টাকা না দিলে রক্ষা নেই পুলিশেরও!


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৩, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন /
সাংবাদিক খায়েরের চাঁদাবাজি: মাসে ১৩ লাখ টাকা না দিলে রক্ষা নেই পুলিশেরও!

অনুসন্ধান প্রতিবেদন।। 

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হলেও এই পরিচয়ের আড়ালে কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন অপরাধের অভয়ারণ্য। এমনই এক চাঞ্চল্যকর নাম কুমিল্লার মুরাদনগরের আবুল খায়ের। একসময়ের সাধারণ বাসের হেলপার থেকে রাতারাতি নামি দামী গণমাধ্যমের প্রতিনিধি বনে যাওয়া এই খায়েরের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদাবাজি, মাসোয়ারা আদায় এবং দেশবিরোধী চক্রান্তের পাহাড়সম অভিযোগ।

১. রাজনৈতিক গিরগিটির ভোল বদল
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খায়ের ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী এমপি রাজি মোহাম্মদ ফখরুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নিজেকে ‘একনিষ্ঠ আওয়ামী সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন। তবে ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টাতে সময় নেননি তিনি। রাতারাতি নিজের খোলস বদলে নিজেকে এখন পরিচয় দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে।

২. মাসিক ১২-১৩ লাখ টাকার ‘খাজনা’ আদায়ের অভিযোগ
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে পুলিশ প্রশাসনের ভেতর থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে জানান, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন থানা থেকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা মাসোয়ারা দিতে হয় এই খায়েরকে। টাকা না দিলেই শুরু হয় ‘নিউজ ব্ল্যাকমেইল’। মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রেখেছেন এই বিতর্কিত সাংবাদিক।

৩. গোয়েন্দা নজরদারিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা
সাংবাদিকতার আড়ালে খায়েরের কর্মকাণ্ড শুধু চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি আইএসআই (ISI) এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহ করতেন। এই ভয়ংকর অভিযোগের কারণেই গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে কুমিল্লা সেনানিবাসে আমন্ত্রণ পেলেও নিরাপত্তা যাচাই-বাছাইয়ে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

৪. কোটিপতি খায়েরের সম্পদের খোঁজে দুদক
বাসের হেলপারি থেকে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক আবুল খায়ের। তার এই অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় দেখে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জানা গেছে, তার অবৈধ আয়ের উৎস নিয়ে দুদকের একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

৫. গণধিকৃত ও অবাঞ্ছিত
নিজ এলাকা মুরাদনগরেও খায়েরের ভাবমূর্তি অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ। সাধারণ মানুষকে হয়রানি, জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে ইতিপূর্বেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। একজন পেশাদার সাংবাদিকের আড়ালে এমন অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা সংবাদ জগতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
> ” গণমাধ্যমের”-এর বার্তা: সাংবাদিকতার পবিত্রতা রক্ষায় এমন মুখোশধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে  লড়াই চলবে। এদের পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।